গত ২৯ ২৯ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডে এক গণভোটের মাধ্যমে মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হয়। গণভোটে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার মিনার নিষিদ্ধকরণ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) এ গণভোট গ্রহণের প্রস্তাব রাখে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ডানপন্থী দলগুলো সুইজারল্যান্ডের গণভোটের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের মিনার বিরোধী গণভোট মুসলিমবিশ্বে জোরালো কোনো প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়নি বললে ভুল হবে না। হলে হয়ত অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে একই কায়দায় গণভোটের মাধ্যমে ইসলামসংলগ্ন বিষয়গুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্যাম্পেইন শুরু হত না।
হলান্ডের কট্টর ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টির সাংসদ গেরাল্ড ফিল্ডার্স, যিনি ইতঃপূর্বে’ফেতনা ‘ ফিল্ম প্রযোজনা করে ইসলামের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করেছেন, সুইজারল্যান্ডের গণভোট থেকে উৎসাহ পেয়েছেন। তিনি হলান্ড সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন অভিন্ন পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের। হলান্ড রেডিওর ওয়েবসাইটে সুইস জনতার উদ্দেশ্য প্রেরিত উক্ত নেতার অভিনন্দন প্রচার করা হয়, যাতে তিনি সুইজারল্যান্ডের গণভোটের ফলাফলকে চমৎকার বলে আখ্যায়িত করেন। ডাচ জনতাও একই পথ অবলম্বন করে হলান্ডে মিনার নিষিদ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হলান্ডে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তার দল একটি খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ করে যাবে বলে তিনি দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফিল্ডার্স মন্তব্য করে বলেন, ইউরোপ ইসলামিকরণের ঝুঁকিতে আক্রান্ত। মিনার নিষিদ্ধ করে ইউরোপীয়রা এই প্রথম ইসলামাইজেশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাল। এই কট্টরপন্থী নেতা আল কুরআনকে জার্মান নেতা এডলফ হিটলারের ( My struggle)গ্রন্থের সাথে তুলনা করেন, এবং কুরআনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জনান। তিনি ইসলামি সংস্কৃতিকে পশ্চাৎপদ সংস্কৃতি বলে আখ্যায়িত করেন।
একই ধারাবাহিকতায় ইটালির কট্টর ডানপন্থী দল নর্দান ইটালীয় লীগ নেতা ও সাংসদ মারিও বুরজিযিও ইটালিতে মিনার নিষিদ্ধের জন্য অভিন্ন পদ্ধতিতে গণভোট গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করে বলেন,’ সুইজারল্যান্ডের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী থাকার সাহসী পতাকা ইউরোপকে ইসলামিকরণের সকল প্রচেষ্টার উপর দিয়ে পতপত করে উড্ডয়নের জানান দিয়েছে।
বহুল প্রচারিত জার্মান পত্রিকা শাবিজল গত ৩০ নভেম্বরের এক রিপোর্টে বলেছে, জার্মান মন্তব্যকারীরা সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘসময় জুড়ে পরিচালিত মুসলিমবিরোধী প্রচারণাকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন। এ প্রচারণনার অন্যতম কৌশল স্বরূপ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী পোস্টার সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার একটিতে দৃষ্টিকটুভাবে উপস্থাপিত হয়েছে সুইস পতাকাকে ছাপিয়ে মিসাইল সদৃশ বহু মিনার দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য। আরেকটিতে খচিত ছিল বোরকা-নেকাব আচ্ছাদিতা এক নারীর চিত্র যা, শুধু যে কেবল সুইসদের ইসলাম ভীতিকেই নির্দেশ করছে তাই নয়, বরং বিগত বছরগুলোতে সুইজারল্যান্ড যে অবনতির শিকার হয়েছে এবং নিজেদের আত্মবিশ্বাস যে চরম ঝাঁকুনির সম্মুখীন হয়েছে, তাকেই নির্দেশ করছে দৃষ্টিগ্রাহ্য আকরে। তবে তিনি তার মন্তব্যে এও বলেছেন যে, জার্মান পর্যবেক্ষকদের অভিমত অনুযায়ী, যদি জার্মানিতেও মিনার নিষিদ্ধকরণের ইস্যুতে গণভোট নেয়া হয় তবে জার্মানরাও অভিন্ন পথ অবলম্বন করবে বলে ধারণা।