ইসলাম ডট কম ডট বিডি

www.islam.com.bd

মুসলিম বিশ্বে সুইজারল্যান্ডকে বয়কট করার প্রস্তুতি

জার্মান চলচ্চিত্র প্রযোজক ফাতিহ আকিন সুইজারল্যান্ডের জিউরিখে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ বর্জন করেন সুইজারল্যান্ডের মিনার বিষয়ক গণভোটের প্রতিবাদে, যাতে ৫৭.5% সুইস জনতা মসজিদের মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে, ইসলামিক অরগানাইজেশন ফর এডুকেশন, সাইন্স এন্ড কালচার ( ইসিসকো) গত ৪/১২/২০০৯ তারিখে, সুইজারল্যান্ডের সাথে মুসলিম বিশ্বের বাণিজ্যিক ও পর্যটনকেন্দ্রিক সম্পর্ক কর্তন এবং সুইস ব্যাংক থেকে মুসলমানদের অর্থ সরিয়ে আনার ব্যাপারে হুমকি দেন যদি সুইস সরকার এ গনভোটের ফলাফলকে আইনী রূপদানের পথে এগিয়ে যায়।
জার্মান চলচ্চিত্র প্রযোজক আকিন ফরাসির একটি বার্তাসংস্থাকে দেয়া উন্মুক্ত বক্তব্যে বলেন’ এই গণভোটের ফলাফল মানবিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক, সহনশীলতা, বিভিন্ন বেকগ্রাউন্ড ও জাতি-গোষ্ঠী থেকে আসা মানুষের সহাবস্থান নীতির বিরুদ্ধে ধৃষ্টতা প্রদর্শন।
তিনি আরো বলেন,’আমি গণভোটের ফলাফলে খুবই আঘাত পেয়েছি। কেননা আমি এমন মুসলিম মাতা-পিতার গর্ভজাত সন্তান যারা মসজিদের মিনারে কোনো রাজনৈতিক ইসলাম দেখেন নি। তারা বরং এটিকে দেখেছেন মুসলিম উপাসনালয়কেন্দ্রিক স্থাপত্যশিল্পের একটি অংশ হিসেবে।
আকিন উল্লেখ করেন, তিনি তার নতুন ফিল্ম’ সোল কিচ ‘ জিউরিখে ১৬-১২-২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন; কারণ, তার ভাষায়,’ আমি সেখানে অনুপস্থিত থেকে আমার বেদনাবিদ্ধ প্রতিবাদের জানান দিতে চাই ‘।
আকিন বলেন,’ আমি মনে করি এই গণভোটের কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, এ কারণে সুইজারল্যান্ডে যাব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আকিনের কিছু ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবে বেশ কয়টি পুরস্কার ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে, যেমন আকাশের প্রান্ত ‘ ২০০৭ -এ
২৯-১১-২০০৯-এ সুইজারল্যান্ডে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ৫৭% সুইস নাগরিক মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে, অপ্রত্যাশিতভাবে রায় দেয়; কেননা ইতঃপূর্বের অধিকাংশ জনমতজরিপের ইঙ্গিত ছিল ভোটাররা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেবে।
গণভোটের ফলাফল সংক্রান্ত অতিসাম্প্রতিক অন্য একটি ঘটনা অনুযায়ী সুইস সিনেট ( সুইস ফেডারাল পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ হাউস) তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রচারিত অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী ৩-১২-২০০৯ তারিখে তুরুষ্কের সংবাদপত্রে, সংখ্যালঘু মুসলমানদের উদ্দেশ্যে সুইস সিনেটরদের দুঃখ প্রকাশ করার যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে তা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আদৌ কোনো দুঃখ প্রকাশ করেনি।

মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধকরণ ইউরোপীয় মানবাধিকার চুক্তি বিরোধী; কেননা এ চুক্তি অনুযায়ী ইবাদতখানা, প্রার্থনালয় ইত্যাদির পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠানের স্বাধীনতা বিষয়ক উক্ত চুক্তির ধারার সাথেও তা সাংঘর্ষিক।
মুসলিম বিশ্ব কর্তৃক সুইজারল্যান্ডকে বয়কট করার প্রস্তুতি
একই ধারাবাহিকতায় ইসিসকোর ডাইরেক্টর জেনারেল আব্দুল আযীয বিন উসমান আততুইজিরি, সুইজারল্যান্ডকে মিনার বিষয়ক সিদ্ধান্তের অশুভ পরিণতি সম্পর্কে বলেন, সুইজারল্যান্ড এ সিদ্ধান্তে অটল থাকলে মুসলিমবিশ্ব তাকে বয়কট করবে। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকসমূহে রাখা সকল অর্থ তারা সারিয়ে আনবে। আততুইজিরি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আমরা কূটনৈতিকভাবে সুইজারল্যান্ডকে বুঝাতে চেষ্টা করব যে গৃহিত গণভোট একটি বেআইনী পদ্ধতি যা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। আর সুইজারল্যান্ড যা করেছে তা মুসলমানদের মানবাধিকারে চরমভাবে আঘাত; কেননা মুসলমানদের এ অধিকার অবশ্যই রয়েছে যে তারা তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে স্বাধীনভাবে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগী পালন করে যাবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সুইজারল্যান্ড যদি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তাহলে সুইজারল্যান্ডকে বয়কট করার জন্য মুসলিমবিশ্বকে উৎসাহিত করা হবে।
সুইজারল্যান্ডের গণভোটের পর মুসলিমবিশ্বে এর বিপক্ষে, কিছুটা শীতল আকারে হলেও, শরু হয় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। আন্তর্জাতিক মুসলিম ওলামা এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ড. ইউসুফ আল কারজাবি বলেন,’গণভোটের ফলাফল মানবাধিকার সনদবিরোধী। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহু-সভ্যতা-থিউরি বিরোধী তিনি আরো বলেন যে, সুইজারল্যান্ডের এ গণভোট গণতান্ত্রিক আদর্শ, ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে সুইস সরকারের জোরালো কণ্ঠের দাবিকে সমূলে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। উপরন্তু বিষয়টি সুইস সরকারের বর্ণবাদী চেহারা ও ইসলাম ভীতিকেই উন্মোচিত করেছে।
সুইস সরকারের জরিপ অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডে ৪০০ লক্ষ মুসলমানের বসবাস। যাদের মধ্যে ৫৬.৪% পূর্বের ইউগোসলাভিয়া থেকে আগত এবং ২১% তুরস্ক থেকে এবং ১২% সুইস বংশোদ্ভূত।
সুইজারল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় দুইশত ইসলামি সেন্টার ও মসজিদ ও নামাজ কক্ষ রয়েছে যেগুলোতে ইসলামি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদি পালন করা হয়।

Leave a Reply

You must be logged in to post a comment.